হিমান পত্রিকা নিয়ে দু-চার কথা

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। কিন্তু আজকালকার দিনের বাঙালি ছেলেমেয়েরা তাদের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দেখায় না। আশ্চর্য এখানেই লাগে যে পাশের দেশের মানুষ যখন ভাষা আন্দোলন করে শহিদ হতে কসুর করেনি তখন আমাদের দেশের বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে সতীনসম মনে করে। এইভাবে চলতে চলতে দেখা যাবে এদেশ থেকে বাংলা ভাষায় কথা বলার মানুষই বিলুপ্ত। সত্যিই কি তাই চান? আসুন না আমরা সমবেতভাবে চেষ্টা করে দেখি বাংলা ভাষাটিকে বাঁচিয়ে রাখার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, রম্যরচনা, অনুবাদ, আলোচনা, কমিকস, প্রবন্ধ শিশুকিশোর উপযোগী যে-কোনো ধরনের লেখা বা কাজই আমাদের ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন।

গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় – কেন এত জনপ্রিয় ছিলেন

সাত সুরে ভেসে যেতে  কোন মানুষ না চায়ে ? আর সেই সুরের যাদু যদি নিজ কণ্ঠে থাকে তাহলে ত আর কথাই নেই । সাক্ষাৎ মা সরস্বতী তার কণ্ঠে বিরাজমান ছিলেন, তার সুর ছুঁয়ে যেত বিশ্ববাসীর হৃদয়কে,এমন এক কিংবদন্তী শিল্পীর নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ।

গীতশ্রী কাহিনী 

সন্ধ্যা থেকে গীতশ্রী সন্ধ্যা হয়ার  পিছনে এক সুন্দর কাহিনী আছে যা পাঠকদের জানা দরকার, নির্মল এক সকাল দিনটি ছিল ৬ ই এপ্রিল , সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের  বয়েস তখন চোদ্দ বছর,এই দিন গীতশ্রী নামক এক গানের পরীক্ষা হয়েছিল বাংলায়ে ,সেই পরীক্ষায়ে যোগদান করেছিলেন ছোট সন্ধ্যা, এই পরীক্ষার বিচারকের আসন অলংকিত করেছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ মহম্মদ  দাবির খাঁ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।সেই পরীক্ষায়ে প্রথম হয়েছিলেন সন্ধ্যা,আর তাকে ‘গীতশ্রী’উপাধি তে ভূষিত করা হয়েহিল। সেই দিন বিচারকরা তার গানে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এর পর থেকে ঠুমরী, ভজন, গজল, কীর্তন, ভাটিয়ালি, বাউল, রবীন্দ্রনাথসঙ্গীত, নজরুলগীতি, আধুনিক গান গেয়ে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে ,আগ্নি পরীক্ষা সিনেমায়ে “গানে মোর ইন্দ্রাধনু” গানটি খুব জনপ্রিয় হয়ে সেই থেকে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় গীতশ্রী নামে মানুষের মধ্যে খ্যাত হন। 

হেমন্ত - সন্ধ্যা  হিট জুটি  

একইভাবে বাংলা সিনেমার বাজারেও প্লে-ব্যাক হিসাবে নাম কুড়িয়ে ছিলেন শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। নিশিপদ, সন্ধ্যা দ্বিপের শিখা, জয়জয়ন্তী,সিনেমা তার গাওয়া গান মানুষের মনে চিরকালীন জায়েগা করে নিয়েছিল।সেই সময়ে আর এক কিংবদন্তী শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর সাথে তার ডুয়েট মুগ্ধ করেছে জন সমাজ কে, উপহার দিয়েছে অসাধারণ কিছু কালজয়ী গান। এছাড়া রবিন চ্যাটার্জি, নচিকেতা ঘোষ ও না না গুনী মানুষের সাথে তিনি কাজ করেছেন।

পুরস্কার এর সম্ভার 

সঙ্গীতের অপার সাধনা তার ঝুলিতে এনে দিয়েছে অনেক পুরস্কার,আমাদের ছুটি ছুটি এবং সকল সোনা মলিন হল গান দুটির জন্য উন্নিশও একাত্তর সালে সেরা মহিলা প্লে ব্যাক এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। উন্নিশও পয়িশত্তি ও উন্নিশও বাহাত্তর সালে দুবার বি এফ জি এ পুরস্কার পান। উন্নিশও নিরানব্বই সালে পেয়েছেন ভারত নির্মাণ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। দুইহাজার এগারো সালে বঙ্গ বিভূষণ সন্মান দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এছারাও সম্প্রতি পদ্মভূষণ পুরস্কার জন্য তার নাম ঘোষণা হয়ে কিন্তু তিনি সেটিকে প্রত্যাখ্যান করেন।

 বাংলাদেশ ও সন্ধ্যা 

মানবিকতার এর এক নাম সন্ধ্যা।। বাংলাদেশ এর মুক্তি যুদ্ধ এর সময়ে গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বিশেষ ভুমিকা পালন করেছিলেন, বাংলাদেশী উদ্বাস্তুদের জন্য অর্থসংগ্রহ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সমাজে সচেনতা গড়ে তলায়ে বিশেষ ভুমিকা নিয়েছিলেন ।এছাড়াও স্বাধীন বাংলা দেশের রেডিও ওর জন্য দেশাত্বক বোধক গান রেকর্ড করেছিলেন । শেখ মুজিবুর রহমানের জেল থেকে ছাড়া পাবার খুশিতে "তুমি এলে" এই গান টি  গেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ এর প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি তে ঢাকার পল্টন ময়দানে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল তাতে ভারতীয় শিল্পীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এই কারণে তিনি শুধু এপার বাংলা নয় ওপার বাংলায়ে সমান জনপ্রিয় ছিলেন।  

দীর্ঘ নব্বই বছর এই ভালবাসা আঁকড়ে থেকেছিলেন, আজ তিনি সশরীরে আমাদের মধ্যে না থাকলেও, তার গানের মধ্যে তিনি আমাদের মধ্যে থাকবেন। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর না না ভাষায়ে গান গেয়ে আমাদের কে যে আনন্দ দিয়েছেন, তার কাজের মধ্যেই বেছে থাকবেন তিনি । শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় থেকে যাবেন আমাদের চিন্তায়ে মননে চিরকাল গীতশ্রী শেরপা পেয়ে। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আমাদের পত্রিকার জনপ্রিয় পোস্টগুলি