হিমান পত্রিকা নিয়ে দু-চার কথা

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। কিন্তু আজকালকার দিনের বাঙালি ছেলেমেয়েরা তাদের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দেখায় না। আশ্চর্য এখানেই লাগে যে পাশের দেশের মানুষ যখন ভাষা আন্দোলন করে শহিদ হতে কসুর করেনি তখন আমাদের দেশের বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে সতীনসম মনে করে। এইভাবে চলতে চলতে দেখা যাবে এদেশ থেকে বাংলা ভাষায় কথা বলার মানুষই বিলুপ্ত। সত্যিই কি তাই চান? আসুন না আমরা সমবেতভাবে চেষ্টা করে দেখি বাংলা ভাষাটিকে বাঁচিয়ে রাখার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, রম্যরচনা, অনুবাদ, আলোচনা, কমিকস, প্রবন্ধ শিশুকিশোর উপযোগী যে-কোনো ধরনের লেখা বা কাজই আমাদের ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন।

অন্দরসজ্জায় টেরাকোটা - প্রিয়াঞ্জনা রক্ষিৎ


প্রতিটি ঘরই একটা করে গল্প বলে, প্রতিটি বাড়ির একটা নিজস্ব গল্প থাকে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতির আবহে নিজের পছন্দের জিনিস দিয়ে ঘর সাজাতে চায় যে কেউ! সে জিনিসগুলো আবার যদি হয় মাটির তৈরি হয় তাহলে সেখানে কিছু আবেগও মিশে থাকে। এই মাটির তৈরি জিনিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টেরাকোটার কাজ, যা আপনাকে নিয়ে যাবে গ্রামীণ শিল্পের শৈল্পিকতে। ইদানিং ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরেই এই টেরাকোটা একটি জনপ্রিয় উপকরণ।

বাংলার গথিক কাহিনীর রূপকার ও তার অবদান - সিমন রায়

 


রবীন্দ্রনাথের ‘মণিহারা’ পড়েছেন তো? কিংবা ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ? আর ইংরেজিতে বলতে হলে ব্রাম স্ট্রোকারের বিখ্যাত বই ‘কাউন্ট ড্রাকুলা’। ‘মণিহারা’ কিংবা ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এ সেই যে বিশালাকায় প্রাসাদের বর্ণনা, ভাঙা জানালা-ঝুলে পড়া বারান্দা নিয়ে ‘মণিহারা’র যে সুপ্রাচীন প্রাসাদ কিংবা ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এ যখন মেহের আলী চিৎকার করে বলে ওঠে ‘সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়’ তখন লেখকের বর্ণনা পড়ে যেন এক শিহরণময় অনুভূতি জাগে। ভূত নয়, ভৌতিক পরিবেশ এবং স্পষ্টত সেই পরিবেশের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রাচীনত্ব রয়েছে। সাহিত্যের ভাষায় একেই নাম দেওয়া হয়েছে ‘গথিক কাহিনী’। গথিক কথাটাই জুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল সুপ্রাচীন মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের সঙ্গে। মধ্যযুগের সেই বিশাল বিশাল দূর্গ, গির্জা, বিশাল অট্টালিকার মধ্যে দাসদের উপর সামন্ত প্রভুদের অত্যাচার, খুন, রক্তপাত, হত্যা, এমনকি সেই সব বিশাল দূর্গের মধ্যেকার শূন্যতা সব মিলিয়ে এক গথিক অনুভব তৈরি করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তৈরি এই ধরনের গথিক সৌধের গোপন সুড়ঙ্গ, গুপ্ত ঘর, অন্ধকার, রহস্যময়তা এসব মিলিয়েই যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন লেখকেরা, সেটিকেই গথিক কাহিনি বলা হয়।

কেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে? - সিমন রায়

 


আমাদের ছোটবেলায় সকলেরই পড়া থাকবে রবীন্দ্রনাথের সেই অমলিন ছড়া – ‘কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ি / বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি’। শুক্রবারের হাটে সে সময় নানাবিধ দৈনন্দিন সামগ্রীর পাশাপাশি স্বমহিমায় বিক্রি হত কুমোরপাড়ার সেই সব হারিয়ে যাওয়া কুমোরদের হাতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন মাটির কলসি, মাটির হাঁড়ি, মাটির সরা, কড়াই আরো কত কি! মাটির উনানে কাঠের আগুনে মাটির হাঁড়িতে রান্না করে খাওয়ার স্মৃতি ও স্বাদ দুইই বাঙালি ভুলেছে। কুমোরপাড়ার সেই কুমোরেরাও আজ কোথায় হারিয়ে গেছে, দেখা মেলে না কলসি-হাঁড়ি বোঝাই করা গাড়িরও। শুধু কি মাটির বাসন! মাটির পুতুল তৈরিতেও একসময় বাংলার সুখ্যাতি ছিল ভারতজোড়া।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারঃ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র কিংবদন্তি স্রষ্টা - সিমন রায়

 

প্রায় প্রতিটি বাঙালিই শৈশবের কোনো না কোনো সময় ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ পড়ে থাকবেন। অনেকে টেলিভিশনে অ্যানিমেশনেও দেখেছেন, সেই ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র স্রষ্টা হিসেবেই বিখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। বাংলার রূপকথার জনক ছিলেন তিনিই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন। অথচ এই বইটিই প্রকাশের জন্য প্রথমে কোনো প্রকাশকই রাজি হননি, ফলে নিজেই প্রেস খুলে নিজের বই প্রকাশ করেন দক্ষিণারঞ্জন। তাঁর লেখা সব বইয়ের প্রচ্ছদও আঁকতেন তিনি নিজেই। আজকের বাঙালি শিশু হ্যারি-পটারে মজেছে, দক্ষিণারঞ্জন এবং তাঁর ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বিস্মৃতপ্রায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে কমে যেতে পারে উৎপাদনশীল মাছের প্রজাতি - সায়ন দাস


প্রতিনিয়ত আমাদের প্রিয় পৃথিবী উত্তপ্ত থেকে উত্তপ্ততর হযে উঠছে। মূলত মানুষ কর্তৃক পরিচালিত উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন, জ্বালানিসহ মাত্রাতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার, ভূমি ও বন ব্যবহার, ভোগবিলাস ইত্যাদি নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎসারিত গ্যাস এবং বায়ুমণ্ডলে পুঞ্জীভূত গ্রীন হাউজ গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়ার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েছে। এবং ভবিষ্যতে তা আরও দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এর ফল স্বরূপ অন্টার্টিকার বরফ গলছে আর হাজার হাজার বছর ধরে জমে থাকা বরফ গলা জল সমুদ্রে মিশছে যার ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের জলস্তর। বিশ্ব জলবায়ুর এই উত্তাপ বৃদ্ধির ফলস্বরূপ ঝর বন্যার পরিমাণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

কলকাতার তিন বিখ্যাত বাজারের গল্প - সিমন রায়

 


সক্কাল সক্কাল বাজারে গিয়ে মাছওয়ালার সঙ্গে দর কষাকষি করে মাছ না কিনলে বাঙালির চলে না, আবার হরেক রকম সবজির মধ্যে হাত দিয়ে দেখে-শুনে একেবারে টাটকা জিনিসটা ঘরে তোলা চাই তার। কলকাতায় বাজারের অভাব নেই, একেক বাজারের একেক বৈশিষ্ট্য। বিশ্বায়নের যুগে কলকাতার সবকটা বাজারের চেহারাই এখন প্রায় একরকম, কিন্তু তবু ইতিহাস মোছে না। বিভিন্ন বাজারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা কিংবদন্তী, নানা জনশ্রুতি। এইরকমই কলকাতার তিন বিখ্যাত বাজারের গল্প জেনে নেওয়া যাক।

আমাদের পত্রিকার জনপ্রিয় পোস্টগুলি